ওয়াশিংটনের কড়াকড়ির ফলে বেইজিং নিজস্ব প্রযুক্তি খাতের স্বনির্ভরতার ওপর জোর দেয়ায় স্থানীয় চিপ নির্মাতাদের জন্য তৈরি হয়েছে বিশাল সুযোগ। খবর সিএনবিসি।
চীনের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্টারন্যাশনাল করপোরেশন (এসএমআইসি) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে কোম্পানির আয় আগের বছরের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেড়ে রেকর্ড ৯৩০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে হুয়া হং নামের চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে প্রায় ৬৬ কোটি ডলার আয়ের রেকর্ড গড়েছে। মার্কিন জায়ান্ট এনভিডিয়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামা মুর থ্রেডস জানিয়েছে, তাদের গত বছরের আয় ২৩১-২৪৭ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই অবকাঠামো তৈরির জন্য চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বিদেশী চিপের বদলে দেশীয় বিকল্পের দিকে ঝুঁকছে। ফলে গত বছরেই চীনের শীর্ষ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
চীনের চিপ খাতের রেকর্ড আয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষক পল ট্রায়োলো। এর মধ্যে এক নম্বরে আছে বৈদ্যুতিক যানবাহন ও অবকাঠামো। বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর প্রসারের ফলে চিপের চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। দুই. এআই ও ডেটা সেন্টার। উন্নত চিপের চাহিদা এখন আকাশচুম্বী, বিশেষ করে এআই ডেটা সেন্টারগুলোর জন্য এগুলো অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধও চীনের চিপ খাতে বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের উন্নত চিপ বিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকায় চীন সরকার স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে দেশীয় বিকল্প কিনতে উৎসাহিত করছে। ফলে হুয়াওয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
চীনের অন্যতম শীর্ষ মেমোরি চিপ নির্মাতা চ্যাংক্সিন মেমোরি টেকনোলজিস (সিএক্সএমটি) গত বছর ৮০০ কোটি ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১৩০ শতাংশ বেশি। বিশেষ করে এআইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় হাই-ব্যান্ডউইথ মেমোরি (এইচবিএম) রফতানিতে মার্কিন বিধিনিষেধ থাকায় একমাত্র দেশীয় বিকল্প হিসেবে বাজার দখল করে আছে সিএক্সএমটি। যদিও স্যামসাং বা এসকে হাইনিক্সের তুলনায় কোম্পানিটি প্রযুক্তি কিছুটা পিছিয়ে, তবু স্থানীয় বাজারের বিপুল চাহিদাই রেকর্ড আয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।